COP-26: Special Interview of PKSF Chairman


পরমুখাপেক্ষী না হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজেদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে

কপ-২৬ বিষয়ক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ

[অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নচিন্তক ও পরিবেশকর্মী ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ১৯৪০-এর দশকের গোড়ার দিকে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে একই বিষয়ে পিএইচডি করেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই) থেকে। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অধিক সময় ধরে তিনি গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সেরও গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং অনারারি ডিরেক্টর। একই সঙ্গে তিনি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বিআইডিএস-এর সাবেক গবেষণা পরিচালক। তিনি ৪০টির বেশি বই লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন। দেশে-বিদেশে তার প্রায় তিনশত গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো প্রায় সবই মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতি, মানবিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়া বিষয়ক। তিনি ২০০৯ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে গবেষণা ও বাস্তবভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য একুশে পদক পান, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এবং একই বছর বাংলাদেশ সরকারের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ পান। এক সঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি সম্মানে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কনভেনশন ইউএনএফসিসি-এর আওতায় জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন দলের সমন্বয়ক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন।

এই সম্মেলন নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন গবেষক ও শিক্ষক শারমিনুর নাহার]

প্রশ্নকারী: আপনি প্রায় প্রতিবারই জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, এবার জলবায়ু সম্মেলনের ইতিবাচক দিকগুলো কী?

খলীকুজ্জমান: আমি ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রতি সম্মেলনে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন দলের সমন্বয়ক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। এবার, ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ছিল কপ-২৬ অর্থাৎ এর আগে ২৫টি কপ বা আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন হয়েছে। এই ২৬তম সম্মেলন হবার কথা ছিল ২০২০ সালে। করোনার কারণে হয়নি। ২০২০ সাল ছাড়া ১৯৯৫ সালে থেকে প্রতি বছরই এরকম জলবায়ু সংক্রান্ত বিশ্ব সম্মেলন হয়েছে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ইউএনএফসিসি গৃহীত হয়। তাতে শুধুমাত্র গ্রিন হাউজ গ্যাস কমানোর বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যে সম্মেলন (কপ-১৩) অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ের সঙ্গে আরো কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো: অভিযোজন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন। এরপর থেকে প্রতিটি সম্মেলনে এই বিষয়গুলো ঘিরে আলোচনা হচ্ছে, এবং সময় সময় যুক্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়। কিছু ইতিবাচক, কিছু নেতিবাচক ধাঁচে আলোচনাগুলো এগিয়ে চলছে। ২০১০ সালে কোপেনহেগেন (কপ-১৫) সম্মেলনে একটি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। একটি ১২ দফা বিশিষ্ট সমঝোতা (accord) গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, তদানীন্তন বাংলাদেশ পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং আমি অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঐ সমঝোতা দলিলের খসড়া তৈরিতে যুক্ত ছিলাম। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে ঐ ১২টি দফা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে। কোপেনহেগেনে গৃহীত সমঝোতায় প্রথম শিল্প বিপ্লবের পূর্বের তুলনায় এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশি উষ্ণতায় সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়। প্যারিস চুক্তিতে অবশ্য লক্ষ্য ২ ডিগ্রি থেকে অনেক নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

এবারের সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য, মূলত ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যের পক্ষে মতৈক্য লক্ষণীয়। তবে, এখনই উষ্ণায়ন ১.১ ডিগ্রীতে পৌঁছে গেছে। কাজেই শতাব্দী শেষে তা ১.৫ ডিগ্রীতে সীমিত রাখা প্রায় অসম্ভব বলে আমার ধারণা। মনে হয় সব দেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বর্তমান বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য ভয়ংকর ভবিষ্যতের কথা মোটামুটি উপলব্ধি করতে পারছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই গ্রিন হাউজ গ্যাস আরো দ্রুত কমানোর জন্য আগামী বছরগুলোতে আরো আলোচনা করতে এবং গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর প্রক্রিয়া আরো জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এবারই প্রথম কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বিষয়টি গৃহীত প্যাক্ট-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বনাঞ্চল ও ভূমির অবনমন ২০৩০ সালের পর আর ঘটতে দেয়া হবে না, এরকম মতও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রশ্নকারী: কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণতর হচ্ছে, এর ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাই।

খলীকুজ্জমান: এর ক্ষতিগুলো বা কুফল কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। উন্নত দেশগুলোতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন (ঘূর্ণিঝড়) ঘটছে প্রচুর এবং অনেক সময় অনেক শক্তিশালীভাবে – ক্যাটাগরি ৪ বা তারও বেশি। আগে এমনটি ছিল না। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বন্যা এবং চীনে বিধ্বংসী বন্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে আঘাত হেনেছে। মূলত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও অন্যান্য প্রকৃতির দুর্যোগ আগের থেকে ঘন ঘন এবং অধিক বিধ্বংসীরূপে ঘটছে। বাংলাদেশেও ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা এবং বিশেষ করে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ এবং নদী ভাঙ্গন খুবই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কোনো কোনো স্থানে লবণাক্ততা ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ নদীভাঙ্গন ও লবণাক্ততার কারণে উদ্বাস্তু হচ্ছে। ইতোমধ্যেই লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে উপকূলীয় এলাকাসমূহের অসংখ্য মানুষ। এই সংকট বেড়েই চলেছে। উজান থেকে পলিমাটি এসে অনেক নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার ফলে বন্যার প্রকোপ বেড়েছে।

লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ ও জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত সামলাতে বেড়িবাঁধসমূহের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অনেক ক্ষেত্রে উঁচু করা প্রয়োজন। কিন্তু তা খুবই ব্যয় সাপেক্ষ। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন, যা সংগ্রহ করা দুরূহ ব্যাপার। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন আরো খারাপ রূপ নিতে থাকলে অনেক ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্র খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অনেকগুলো হারিয়ে যেতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশটির জনঘনত্বের কারণে। বাংলাদেশ বিশেষভাবে জলবায়ু-ভঙ্গুর একটি দেশ। তাছাড়া, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,২০০ জনের মত মানুষ বাস করে। উল্লেখ্য, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ভারতে ৪২৪ জন, পাকিস্তানে ২৮০ জন, ভিয়েতনামে ২৯৬ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ জন এবং রাশিয়ায় মাত্র ৯ জন মানুষ বাস করে। ফলে আমাদের সমস্যা কতখানি গুরুতর, তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যদি আগামী ৮/১০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো ও বেশি গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী উন্নয়নশীল দেশসমূহ বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আরো দ্রুত গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ না কমায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন অনিয়ন্ত্রিতভাবে খারাপের দিকে যেতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অভিযোজনক্ষম না-ও থাকতে পারে।

প্রশ্নকারী: এতখানি সমস্যার মধ্যেও কপ-২৬-এ নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি?

খলীকুজ্জমান: হয়েছে, আবার হয়নি। প্যারিস চুক্তিকে জাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্যারিস চুক্তির সময় গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর যে অঙ্গীকার পৃথিবীর সব দেশ মিলে করেছিল, তার সবকিছু বাস্তবায়িত হলেও এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবী ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর হতো বলে হিসেব করা হয়েছিল। এবার যে সমস্ত অঙ্গীকার সব দেশ মিলে করেছে, তার সবকিছু বাস্তবায়িত হলে পৃথিবী এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি উষ্ণতর হবে। এটি নিশ্চয়ই কিছু অগ্রগতি, তবে এই উষ্ণতাও খুবই গুরুতর। এর ফলে, বিশ্বের অনেক দেশের অবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে, অনেক ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। তবে, সব দেশ একমত হয়েছে যে তারা আগামী বছর এবং তার পরের বছরগুলোয় এ বিষয়ে আরো আলোচনা করবে এবং নিঃসরণ আরো কমাতে পারবে বলে আশাবাদী। তবে কথা থেকেই যায়। অঙ্গীকারগুলো কি আসলে বাস্তবায়িত হবে? সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অসচ্ছতা রয়ে গেছে। আগামী ৮/১০ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে নিঃসরণ বিজ্ঞান নির্দেশিত পরিমাণে দ্রুত বাস্তবে কমাতে হবে। অন্যথায় জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পদ্ধতি সম্বন্ধে কয়লার ব্যবহার কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানিতে অদক্ষ ভর্তুকি তুলে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কথার বাস্তব প্রতিফলন কী হতে পারে, তা মোটেই পরিষ্কার নয়।

এছাড়া, বনাঞ্চল ধ্বংস ও ভূমির অবনমন রোধের কথাও বলেছে ১০০-এর অধিক দেশ। তবে, এক্ষেত্রে কোন দেশ কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে, সেটা বলা হয়নি। এবার এ বিষয়গুলো নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। ধরা যেতে পারে, আগামীতে করণীয় আরো পরিষ্কার করা হবে এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়গুলো আলোচনায় আসায় খানিকটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তবে কী হতে পারে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। আদৌ কোনো অগ্রগতি হবে কিনা, তা আগামী বা তার পরের কপ থেকে হয়তো জানা যাবে।

প্রশ্নকারী: নিট-শূন্য (Net-zero) প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

খলীকুজ্জমান: নিট-শূন্য প্রসঙ্গে কোনো দেশ বলেছে ২০৫০ সালে সেই অবস্থায় পৌঁছাবে, কোনো দেশ বলছে ২০৬০ বা ২০৭০ সালে পৌঁছাবে। নিট-শূন্য মানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (ধরা যাক, এক বছরে) যতোটা গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করা হবে, ততোটা সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। উদাহরণ: ১০০ ইউনিট যদি নিঃসরণ করা হয়, তাহলে সেটা বনাঞ্চল, কার্বন ক্যাপচার ইত্যাদি ব্যবস্থায় পৃথিবীতেই ধরে রাখা হবে, বায়ুমণ্ডলে যাবে না। উল্লিখিত নিট-শূন্যে পৌঁছার প্রাক্কলিত সময় এখনো অনেক দূরের ব্যাপার। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আমাদের হাতে আর বেশি সময় নেই। বলা হয়েছে, এখন গ্রিন হাউজ গ্যাস যতোটা বায়ুমণ্ডলে পুঞ্জিভূত আছে তা বিগত দুই মিলিয়ন বছরে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে পৃথিবী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতর হয়ে যেতে পারে। কাজেই আগামী ৮/৯ বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনই গ্রিন হাউজ নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে এবং বেশি বেশি গ্রিন হাউজ নিঃসরণকারী বড় বড় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। অন্যান্য দেশকেও যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী এক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্নকারী: বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?

খলীকুজ্জমান: বাংলাদেশের গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ অতি সামান্য। আমরা বছরে মাথাপিছু যে পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করি, তা হচ্ছে এক টনের এক তৃতীয়াংশের মতো এবং উন্নয়নশীল সব দেশের বার্ষিক গড় মাথাপিছু নিঃসরণের ৭ ভাগের ১ ভাগ। আর যদি পৃথিবীতে বার্ষিক যতো গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ করা হয় তা বিবেচনায় নেই, তাহলে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ০.৪৭ শতাংশ। অপরদিকে, বার্ষিক মাথাপিছু নিঃসরণ ভারতে ১ দশমিক ৮ টন, চীনে ৭ দশমিক ৪ টন, যুক্তরাজ্যে ৫ দশমিক ৪ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দশমিক ২ টন। সুতরাং আমরা তেমন কিছুই নিঃসরণ করি না। তারপরেও আমরা অঙ্গীকার করেছি সকলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাধ্যমত গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাবো। আমরা অঙ্গীকার করেছি, ২০৩০ সাল নাগাদ প্রথাগতভাবে চলতে থাকলে যতোটুকু নিঃসরণ করা হতো, তা থেকে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিজেরাই কমাবো জ্বালানি, যোগাযোগ ও শিল্পখাতে এবং আরো ১৫ দশমিক ২ শতাংশ কমাবো যদি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাই। জলবায়ু-ভঙ্গুর দেশগুলোর ফোরাম (Climate Vulnerable Countries Forum)-এর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বাস্তবতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন এবং গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অর্থায়ন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের দায়িত্বশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উন্নত বিশ্বের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশ্নকারী: কমানোর ক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো কী?

খলীকুজ্জমান: রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিমান বিদ্যুতে চালানো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং উৎপাদন ও ভোগ প্রক্রিয়ায় গ্রিন হাউজ নিঃসরণধর্মী ব্যবস্থা বর্জন বা দ্রুত হ্রাস করা। অর্থনীতি এবং জীবনযাপন ব্যবস্থা সবুজায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কয়লার ব্যবহার এখনো ব্যাপকভাবে চলছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইউরোপের ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশের উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের মাত্র এক শতাংশ কয়লাভিত্তিক, কাজেই বাংলাদেশের এক্ষেত্রে কিছু করার নাই। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু অঙ্গীকার ও দিকনির্দেশনা কপ-২৬ থেকে পাওয়া গেছে। তবে আগামী কপ-এ বা তারপর কী সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকার আসে এবং বাস্তবায়নে কেমন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তার ওপর নির্ভর করবে পৃথিবীর মানুষ ও পৃথিবী ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, নাকি ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলবে।

প্রশ্নকারী: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে নতুন কোনো পরিকল্পনা হলো কি?

খলীকুজ্জমান: কপ-২৬-এ কী ঘটেছে তার কিছুটা আঁচ দিলাম এতোক্ষণ। বাংলাদেশে আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম আছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় অর্থায়ন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে তাগিদ, বার্ষিক বাজেট থেকে ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ প্রদান ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা ও কার্যক্রম চলমান আছে। ২০২০ রাজস্ব বছরে বাংলাদেশ বাজেট থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বরাদ্দ ছিল। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। তা নিরসন জরুরি। অগ্রাধিকার নির্ধারণেও নজর খুব কম দেয়া হয়েছে, হচ্ছে। এই দুর্বলতাগুলো দূর করতে পারলে সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি আরো ভাল হবে।

তবে আসল কথা হচ্ছে আমাদের নিজেদের সম্পদ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম, বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে। লাগসই প্রযুক্তি সংকট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা লাগবে। তা সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে, আশার আলো তেমন দেখা যাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক সময় তা রক্ষা করে না। ২০০৯ সালে ১৫তম কপে উন্নত বিশ্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেবে। কিন্তু এখন ২০২১ সাল, তাদের হিসেবেই দেখা যাচ্ছে তারা এ পর্যন্ত দিয়েছে ৮০ বিলিয়ন ডলার। যদিও অন্যান্য হিসেবে তা অনেক কম। এখন তারা বলছে, ২০২৩ সালে অর্থায়নের পরিমাণ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে। প্রথম এ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল ১২ বছর আগে। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি হলো, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ যে ১২০ বিলিয়ন বিগত দু’বছরে দেয়া হয়নি, তা পুষিয়ে দিতে হবে। এই দাবি পূরণ হবার সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না। আরো কথা ছিলো — এই অর্থায়নের অর্ধেক হবে প্রশমন (গ্রিন হাউজ নিঃসরণ কমানো) এবং অর্ধেক হবে অভিযোজনের জন্য। কিন্তু এযাবৎ যে অর্থ দেয়া হয়েছে, তার ৮০ শতাংশ প্রশমন এবং মাত্র ২০ শতাংশ অভিযোজনের জন্য। এই কপে অভিযোজনের জন্য অর্ধেক অর্থায়নের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু উন্নত বিশ্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা ২০২৩ সালে অভিযোজনের জন্য ২০১৯ যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিল তা দ্বিগুণ করা হবে। কিন্তু প্রথমত দ্বিগুণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আবার তারা যা বলছে সেটাও যে ঘটবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মত ক্রমবর্ধমানভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়া দেশগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে অভিযোজন, অর্থাৎ আক্রান্ত মানুষকে, অর্থনীতিকে এবং অবকাঠামোকে পুনরুদ্ধার করা, পুনর্বাসন করা।

প্রশ্নকারী: ফান্ডিং নিয়ে প্রতিবারই অনেক বাকবিতণ্ডা হয়, এবারও হলো। কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন এবার হয়েছে কি?

খলীকুজ্জমান: এ বিষয়ে বেশ কিছু কথা ইতোমধ্যেই বলেছি। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কী পেল? কিন্তু দেখুন, এখানে কোনো একক দেশকে কিছু দেয়া হয় না। বিষয়টা হল উন্নত দেশসমূহ উন্নয়নশীল দেশসমূহকে অর্থ দেয়। তবে তা দেয়া হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যেমন গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)। কোনো দেশকে এসকল প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আনতে হলে প্রকল্প দিতে হয়। তাই বাংলাদেশকে টাকা আনতে হলে ভালো প্রকল্প প্রস্তুত করে জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া খুব কঠিন ও দীর্ঘসূত্রী। একটা প্রকল্প সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো ২ থেকে ৩ বছর লেগে যায়। প্রথমে প্রকল্পটি পরামর্শকদের কাছে দেয়া হয়, তারা সম্ভাব্যতা যাচাইকল্পে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রশ্ন উত্থাপন করার জন্যই তা করা হয়, আসলে অপ্রয়োজনীয়। আবার কখনো একই প্রশ্ন বিভিন্নভাবে বার বার উত্থাপন করা হয়। এসব করতে করতে দেখা যায় যদি প্রকল্প শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয় এবং ফান্ড পাওয়া যায় তখন সমস্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তখন সেই টাকায় আর তেমন কিছু হয় না। এটা নিয়ে কপ ২৬-এ খুব জোরালো আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, জানি না কতদূর কী হবে।

বাংলাদেশ জিসিএফ থেকে এ পর্যন্ত সামান্য টাকা পেয়েছে। দু’ভাবে টাকা আনার ব্যবস্থা আছে। একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার (ইউএনডিপি, কেএফডব্লিউ ইত্যাদি) মাধ্যমে অথবা দেশি কোনো সংস্থা যদি জিসিএফ-এর ডিএই (Direct access entity) হিসেবে স্বীকৃতি পায় তার মাধ্যমে। বাংলাদেশে দু’টি প্রতিষ্ঠান ডিএই হিসেবে স্বীকৃত: পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ইডকল। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা ও পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে অনুদান হিসাবে মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলারের মতো পেয়েছে। অবশ্য এর সঙ্গে নিজেদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে (অর্থাৎ কো-ফাইন্যান্সিং-এর ভিত্তিতে অনুদান পাওয়া যায়) এবং ইডকল-এর মাধ্যমে ছয় মিলিয়ন অনুদান এবং ২৫০ মিলিয়ন ঋণ পাওয়া গেছে। এ অর্থ অতি সামান্য, এমনকি বাংলাদেশ নিজেই যে অর্থ জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয় করে তার তুলনায়ও, আর প্রয়োজনের তুলনায় তো নগণ্য বটেই। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে (বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইত্যাদি) এবং দ্বিপাক্ষিকভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আরো কিছু অর্থ পাওয়া যায়। কিন্তু সব মিলিয়ে বার্ষিক এক বিলিয়নও নয়। আগামীতে যে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে তার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না।

কাজেই আমাদের নিজেদের সম্পদ দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সমস্যা মোকাবেলায় আরো তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেন-দরবার জোরদারভাবে চালিয়ে যেতে হবে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই, বিশেষ করে দ্রুত ও পর্যাপ্ত গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রশ্নকারী: কপ-এর বড় বড় সম্মেলনে বাস্তব সমাধান আসলে কেন আসে না?

খলীকুজ্জমান: দেখুন, এসব সম্মেলন এমনই। বিধি অনুযায়ী, কপ-এ অংশগ্রহণকারী সব দেশ একমত হলেই একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। কপ-২৬-এ ১৯৭টা দেশ অংশগ্রহণ করেছে। সব দেশ একমত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আসলেই কঠিন। লোকসংখ্যা যাই হোক বা উন্নয়নের স্তর যাই হোক, প্রত্যেক দেশের একটি ভোট। এখানে মেজরিটি দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ফলে সব সময় সব কিছুতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হয় না। কেউ না কেউ নারাজ হলে, কোনো প্রস্তাব বাতিল হবে বা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সে দেশের মত পরিবর্তন করে প্রস্তাবে তার সমর্থন আদায় করতে হবে অথবা প্রস্তাবে পরিবর্তন করে সে দেশের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। নানান লবি কাজ করে। দ্বিতীয় সমস্যা: আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং অবস্থান তৈরি করে বিশেষজ্ঞরাও কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় রাজনীতিবিদরা। ফলে খুব ভালো আলোচনা হলেও যখন সেটা রাজনীতিবিদদের হাতে চলে যায়, তখন বিষয়গুলো তাদের রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা এবং নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এটিই বাস্তবতা। তবে, হতাশ না হয়ে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সস্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি মিলিয়েই পরবর্তীতে কার্যকর হতে পারে এরকম উপায়ের পথ খুঁজতে হবে। এই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যার কার্যকর সমাধান বৈশ্বিক পর্যায়েই খুঁজতে হবে। যদিও প্রত্যেক দেশ নিজ নিজ অবস্থান এবং সক্ষমতার ভিত্তিতে নিজ নিজ দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিঘাতসমূহ মোকাবেলায় সমাধানের যতদূর সম্ভব নিজেদেরকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্নকারী: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

খলীকুজ্জমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।